আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (সংক্ষেপে বিন বায) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত এবং সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি [১.১.১, ১.১.৭]। তিনি মূলত সালাফি মতাদর্শের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত ছিলেন [১.২.৩]।
তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. জন্ম ও বাল্যকাল
জন্ম: তিনি ১৯১২ সালের ২১ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন [১.১.১, ১.২.২]।
দৃষ্টিশক্তি হারানো: শৈশবে তার দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ১৫ বছর বয়স থেকে তা কমতে শুরু করে এবং ১৯ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান [১.২.২, ১.৩.৯]। তবে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার জ্ঞানার্জনে বাধা হতে পারেনি [১.১.৩]।
২. কর্মজীবন ও পদমর্যাদা
গ্র্যান্ড মুফতি: তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি (প্রধান ধর্মীয় নেতা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন [১.১.১, ১.৩.৬]।
অন্যান্য পদ: তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও চ্যান্সেলর হিসেবে কাজ করেছেন [১.৫.৫]। এছাড়াও তিনি রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ)-এর উচ্চ পরিষদের প্রধান ছিলেন [১.৫.২, ১.৫.৬]।
পুরস্কার: ইসলামি জ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে তাকে মর্যাদাপূর্ণ কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করা হয় [১.১.২, ১.৫.১]।
৩. জ্ঞান ও অবদান
বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি: তিনি বয়ঃসন্ধির পূর্বেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং বুখারী, মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তাহর হাজার হাজার হাদিস মুখস্থ করেছিলেন [১.২.১, ১.২.২]।
রচিত গ্রন্থ: তিনি আকিদা, ফিকহ, হাদিস এবং দাওয়াত সংক্রান্ত প্রায় ৬০টিরও বেশি বই লিখেছেন [১.৫.১, ১.৫.৩]। তার লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সালাতুর রাসূল (ছাঃ)
আল-আকিদাতুস সহীহাহ
ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ [১.৪.৭]
৪. মৃত্যু
তিনি ১৯৯৯ সালের ১৩ মে ৮৭ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন [১.১.৬, ১.২.৮]। মক্কায় জানাজা শেষে তাকে সেখানেই দাফন করা হয় [১.২.২]।
তার ফতোয়া এবং গবেষণাধর্মী কাজগুলো আজও বিশ্বজুড়ে আহলে হাদিস এবং সালাফি মতাদর্শীদের কাছে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয় [১.২.২]।